শ্রীলঙ্কার আটটি স্থানে বোমা হামলায় অন্তত ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় একটি বিলাসবহুল হোটেলের ৬১৬ নম্বর রুম নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সকালে যে তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে একটি হলো হোটেল সাংরি-লা। প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল ওই হোটেলের ৬১৬ নাম্বার কক্ষে যে দুজন ছিলেন তারা ইসলামী চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত।

শ্রীলঙ্কান ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পুলিশ এ ঘটনায় যে দুজনকে সন্দেহ করছে তারা ইসলাম ধর্মালম্বী চরমপন্থী।


রবিবার সকালে যে ছয়টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তা ছিল আত্মঘাতী বোমা হামলা। পরে দুপুরের দিকে আরও দুটি স্থানে বোমা হামলা হয়েছে।

হোটেলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ৬১৬ নাম্বার কক্ষে থাকা সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তি হোটেলের ক্যাফেটেরিয়া ও করিডরে। বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার পর আর তাদের হোটেলে দেখা যায়নি।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তি ২৫ কেজি ওজনের সি-৪ ধরনের বিস্ফোরকের মাধ্যমে সাংরি-লা হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলা করেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে ডেইলি মিরর বলছে, অভিযুক্ত দুই হামলাকারী হোটেলেরে যে কক্ষটিতে ছিলেন সেটি ভাঙার পর তদন্তকর্মকর্তারা সেখানে ইসলামী চরমপন্থীদের ব্যবহৃত কিছু উপাদান খুঁজে পেয়েছেন।

তবে এটা এখনো অস্পষ্ট যে বোমা হামলাকারীরা স্থানীয় নাকি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বিদেশি পর্যটক হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে মিরর।




হামলার ধরণ দেখে দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছে মুসলিম জিহাদিরাই ওই হামলা চালিয়েছে। এর পেছনে ইসলামি স্টেটের( আইএস) হাত রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। হামলাগুলোর মধ্যে কমপক্ষে দুটি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে। যা সাধারণত মুসলিম জিহাদিরা করে থাকে।

গৃহযুদ্ধের সময় তামিল হামলায় প্রায়শই কেঁপে উঠতো কলম্বো। তবে ওই হামলাগুলো সাধারণত দেশটির তৎকালীন সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হতো। এছাড়া গত এক দশকে দেশটিতে শান্তি বিরাজ করছে। ২০০৯ সালে এই গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই হামলার সঙ্গে তামিলদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ইতোমধ্যেই ভারতীয় গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তারা এসব হামলার ধরণ ও ফুটপ্রিন্ট বোঝার চেষ্টা করছেন।

দেশটির একজন শীর্ষ গোয়েন্দা বলেন, আপনারা যদি হামলার ধরণ লক্ষ্য করেন তাহলেই বুঝবেন এটি আইএস-এর জিহাদিদের কাজ। এ বিষয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা একযোগে কাজ করছে। আলামত খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এ পর্যন্ত ১৮৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন ৫ শতাধিকেরও বেশি মানুষ। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদিকে ওই ছয় স্থানে হামলার পরই আরো দুটি স্থানে বোমা হামলা হয়েছে। রাজধানী কলম্বোর কাছের দেহিওয়ালার চিড়িয়াখানা এলাকায় সপ্তম এই বিস্ফোরণে অন্তত দু’জন নিহত হয়েছে। এরপরই ফের বিস্ফোরণ ঘটে দেমাতগোদা নামে এলাকায়। অষ্টম বিস্ফোরণের পরই দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডের দিনে এই হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি। এদিন সকালে কমপক্ষে ছয়টি জায়গা শক্তিশালী বোমা হামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কলম্বোর তিনটি জনপ্রিয় হোটেলে হামলা হয়। এছাড়া রাজধানীর বাইরে তিনটি শহরের তিনটি প্রধান গির্জায় বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here