অদ্ভুত এক গরু "বেলজিয়াম ব্লু"
অদ্ভুত এক গরু "বেলজিয়াম ব্লু"

অদ্ভুত এক গরু যার নাম “বেলজিয়াম ব্লু”

অনেকে হয়তো প্রথমবার দেখছেন এই গরুটি । আবার অনেকে হয়তো গরুটি দেখেননি।  আবার কেউ কেউ গরুটি দেখে বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই আবার কেমন গরু !

এই  গরুটির নাম হচ্ছে বেলজিয়াম ব্লু। এই গরুটি লালন পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এর  শরীরের মাংস পেশী । এই গরুটির শরীরের প্রত্যেকটি থরে থরে প্রচুর পরিমাণে মাংস পেশী । উন্নত বিশ্বের মধ্যে এই গরুর জাতটি ব্যাপক প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশে এই গরুটি একেবারেই অচেনা। গত প্রায় ৮০ বছর ধরে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে এই গরুর জাতটি ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এর পিঠে কোন কুজ নেই।  একদমই সমান । শক্তিশালী পা রয়েছে বিশালদেহী গরুটির। ২০ থেকে ৩০ মণ বা ৮’শ থেকে ১২’শ কেজি ওজনের গরুকে কুস্তিগীরও মনে হতে পারে। কিন্তু একেবারে শান্ত । যেগুলো জন্ম নেয় ৭০ কেজি ওজন নিয়ে। তারপর থেকে প্রতিদিন বাড়তে থাকে প্রায় এক কেজি করে।

 

অদ্ভুত এক গরু বেলজিয়াম ব্লু

 

বেলজিয়ামের ১ খামারি গরু সম্বন্ধে বলেন এটি বেলজিয়াম ব্রু বা ব্ল্যাক নামেও পরিচিত । প্রতি দুই বছরের মাথায় এই গরুটির ওজন হয় প্রায় ৬০০ কেজির মতো । তিন বছরের মাথায় এর ওজন প্রায় ৭৫০  কেজিতে বোঝায়। অনেক শক্তিশালী হয় এই গরুটি। এ সর্বোচ্চ ওজন গিয়ে দাঁড়ায় ১০০০ কেজি থেকে প্রায় ১৩ কেজি পর্যন্ত।

গরুটির নাম আসলে গরুর গায়ের রঙের ওপর নির্ভর করে। ওয়াইট ব্লু কাউ হচ্ছে যে গরুতে সাদা রঙের আধিক্য বেশি। ব্লু ব্ল্যাক হলে নীল রঙের আধিক্য বেশি।

এই গরুটি সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরা বলছেন , ১৯৫০ সালে বেলজিয়ামের অন্য একটি গরুর জাত কে উন্নত করে এই জাতটি আবিষ্কৃত হয় যা বেলজিয়াম ব্লু নামে পরিচিতি লাভ করে। স্তম্ভ হাজার ১৯৮০ চারদিকে ছড়িয়ে যায় সমগ্র আমেরিকা ও ইউরোপে। আর এই গরুর জাতটি প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করে ।

আবার অনেকে মনে করতে পারে এটি এন্টিভাইটিক যুক্ত করুন যাকে বিভিন্ন ঔষধ খাইয়ে এভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে আপনার ধারণা একদমই ভুল এগুলো কি লালন পালন বা বড় করতে কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক বা মোটাতাজা করার ওষুধ খাওয়ানো বা ব্যবহার করা হয়নি।
এ ব্যাপারে আপনাকে নিশ্চিত করতে বেলজিয়ামের সিড লাইনস এর ডেইলি টেকনিক্যাল সাপোর্ট রবিন ফ্র্যানজন বলেন, গরুটিকে বড় করতে এন্টিবায়োটিক এর নাম গন্ধ ব্যবহার করা হয়নি। এই গরুগুলোর বৈশিষ্ট্যই এমন। মিয়োস্ট্যাটিন জিনের মিউটেশনের জন্য এমনটি হয়। সিমেন নির্বাচন করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।”

“ ১৯৫০ সালের কৃত্রিম প্রজনন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর হ্যাটসেট এই বেলজিয়ান আদি একটি জাত থেকে ক্রস ব্রিডিং এর মাধ্যমে জাতটি উন্নয়ন করেন। এটি বেলজিয়ামের প্রায় দুশো বছরের পুরনো একটি জাতেরই উন্নত সংস্করণ। ১৯৭৮ সালে এই জাতটি প্রথম বেলজিয়ামের পৃথিবীর কোনো দেশ হিসেবে আমেরিকায় পরিচিত করা হয়। তারপর থেকে বেলজিয়ান ব্লু জাতটিকে আর নতুন করে চিনিয়ে দিতে হয় না।’’

এই গরুটি যদি বাংলাদেশের প্রচলিত হয় তাহলে আমাদের দেশের মানুষ চারিদিক থেকে লাভবান হবে। কারণ  আমাদের দেশে গরুর মাংসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে । আমাদের যে গরু গুলো রয়েছে তার ওজন খুব বেশি হলে নয় থেকে দশ মণ হবে। যা আমাদের দেশে মাংসের ঘাটতি পুরণে ব্যর্থ । আর কোরবানির সময় আমাদের দেশে গরুর প্রচুর ঘাটতি দেখা দেয় আমরা তখন ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে গরু আমাদের দেশে আমদানি করতে হয়। কোন সময় প্রচুর পরিমাণ গরু অবৈধ ভাবে আমাদের দেশে প্রবেশ করে। তার ওপর গরুকে মোটাতাজা করতে আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যা মানব শরীরের জন্য প্রচুর ক্ষতিকর।

তাই আমাদের গবাদি পশু পালনে বেলজিয়ান ব্লু জাতটি যুক্ত করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ নাকি মায়ানমার কোন দেশ বেশি শক্তিশালী ?

লাইক দিনে আমাদের ফেইসবুক পেজে

আর ঘুরে আসুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *